জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি ও দু’জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবসহ ৩ পুলিশের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। সেই সঙ্গে একজনকে দেয়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও আসামির ২০ বছরের কারাদণ্ডের বিষয়টিও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর তিন বিচারকের সাক্ষরের পর বুধবার (১৫ জুলাই) রায়টি প্রকাশিত হয়। ফলে বুধবার থেকে আগামী এক মাসের মধ্যে আপিল করতে পারবেন সাজাপ্রাপ্তরা।
এর আগে ২৮ জুন আলোচিত এ মামলার সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি শফিউল আলম ও বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান (ইতোমধ্যে চানখাঁরপুলের মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে), ডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান। তবে এই তিন আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছে।
অন্যদিকে রায়ে রামপুরা থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। তিনিও পলাতক। এছাড়া রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি গ্রেপ্তার আছেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় এটি ছিল পঞ্চম মামলার রায়। আলোচিত এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়। এরমধ্যে প্রথম অভিযোগ হলো, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই দুপুরে রাজধানীর রামপুরার বনশ্রী এলাকায় মো. নাদিম হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা। পাশাপাশি দ্বিতীয় অভিযোগটি হলো, একই দিন বনশ্রী এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে ঝুলে থাকা আমির হোসেনকে গুলি করে গুরুতর আহত করা এবং তৃতীয় অভিযোগটি হলো, সেদিন (২০২৪ সালের ১৯ জুলাই) বিকেলে বনশ্রী এলাকায় ৭ বছর বয়সী বাসিত খান মুসার মাথা ভেদ করে গুলি এবং সেই গুলিতেই তার দাদি মায়া ইসলামকে হত্যা করা।
খুলনা গেজেট/এএজে

